বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় ২০২৬ – Study Abroad

Ways to get scholarships abroad

একুশ শতকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে উচ্চশিক্ষা কেবল একটি ডিগ্রি নয়, বরং একটি বিশ্বজনীন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে স্কলারশিপের ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। 

আপনি যদি মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হন এবং নিজের মেধা দিয়ে বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তবে স্কলারশিপই আপনার একমাত্র চাবিকাঠি। আজ আমরা বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় ২০২৬ সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত তথ্য দিতে চেষ্টা করবো। 

আরও পড়ুনঃ Study in USA

২০২৬ সালের সেরা কিছু স্কলারশিপের তালিকাঃ 

আপনি যদি ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তুতি নেন, তবে নিচের স্কলারশিপগুলো নজর রাখুন:

ইরাসমাস মুন্ডাস (Erasmus Mundus)

ইরাসমাস মুন্ডাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইউরোপের একাধিক দেশে একই ডিগ্রি প্রোগ্রামের আওতায় পড়াশোনার সুযোগ পান। সাধারণত মাস্টার্স পর্যায়ের জন্য এটি বেশি জনপ্রিয়। ইরাসমাস মুন্ডাস সম্পূর্ণ ফান্ডেড স্কলারশিপ হওয়ায় এতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত খরচ এবং স্বাস্থ্য বীমা অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

ভিন্ন ভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকায় এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ২০২৬ সালের জন্য আবেদন করতে চাইলে এখন থেকেই একাডেমিক প্রস্তুতি, ভাষাগত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখা জরুরি।

শেভেনিং স্কলারশিপ (Chevening)

শেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশ্বখ্যাত স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। এটি মূলত ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়। শেভেনিং স্কলারশিপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া যায়। 

এই স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয়। আবেদনকারীর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জন্য আগ্রহী হলে এখন থেকেই প্রোফাইল শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তুর্কিয়ে বুরসলারি (Türkiye Bursları)

তুর্কিয়ে বুরসলারি হলো তুরস্ক সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত একটি জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তুরস্কে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এর একটি বড় সুবিধা হলো—অনেক ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকে না। 

স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্য বীমা এবং যাতায়াত খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তুরস্কের সংস্কৃতি, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে এই স্কলারশিপটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের জন্য আবেদন করতে চাইলে একাডেমিক ফলাফল ও ব্যক্তিগত স্টেটমেন্টে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

এমইএক্সটি (MEXT)

এমইএক্সটি (MEXT) স্কলারশিপ জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদান করা হয়। এটি এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম সেরা স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাপানের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ পান। 

এমইএক্সটি স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড হওয়ায় এতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত খরচ ও প্রাথমিক ভাষা প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকে। জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে এখন থেকেই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণার আগ্রহ ও ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখা উচিত।

আবেদনের সঠিক সময় (Application Timeline)

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ আবেদন করতে হলে সঠিক সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ প্রোগ্রামে সাধারণত বছরে দুটি প্রধান সেশন বা ইনটেক থাকে। এই ইনটেক অনুযায়ী আবেদন সময়সূচি নির্ধারিত হয়, যা আগেভাগে না জানলে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

  • ফল সেশন (Fall Intake)

এই সেশনে সাধারণত ক্লাস শুরু হয় আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে। ফল সেশনের জন্য স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় আগের বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। অর্থাৎ, যদি আপনি ২০২৬ সালের ফল সেশনে পড়াশোনা শুরু করতে চান, তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকেই আপনার আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। এই সময়ে বেশিরভাগ জনপ্রিয় ও বড় স্কলারশিপ যেমন ইরাসমাস মুন্ডাস বা শেভেনিং-এর আবেদন গ্রহণ করা হয়।

  • স্প্রিং সেশন (Spring Intake)

এই সেশনে সাধারণত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে ক্লাস শুরু হয়। স্প্রিং সেশনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় তার আগের বছরের মে থেকে জুন মাসে। তাই আপনি যদি ২০২৬ সালের শুরুতে ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ডকুমেন্ট সংগ্রহ এবং ব্যক্তিগত স্টেটমেন্ট লেখা সম্পন্ন করা উচিত।

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতাঃ 

Eligibility for scholarships abroad

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া বা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হলো এর প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলো অর্জন করা। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল ভালো রেজাল্ট নয়, বরং প্রার্থীর সামগ্রিক দক্ষতা যাচাই করে। নিচে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার প্রধান যোগ্যতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা 

স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। আবেদনকারীর আগের পরীক্ষাগুলোর ফলাফল তার মেধা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার প্রমাণ বহন করে। সাধারণত ৪.০০ স্কেলে ৩.৫০ বা ৫.০০ স্কেলে ৪.৫০ এর উপরে জিপিএ থাকলে ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তবে যদি কারও ফলাফল কিছুটা কম হয়, তাহলে মানসম্মত এসওপি, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বা নেতৃত্বগুণ দিয়ে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া আপনি যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যাচ্ছেন, সেই বিষয়ের সাথে আপনার আগের ডিগ্রির ধারাবাহিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি আপনার একাডেমিক লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

২. ভাষা দক্ষতা

বিদেশে পড়াশোনার মূল মাধ্যম যেহেতু ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় ভাষা, তাই ভাষা দক্ষতা প্রমাণ করা স্কলারশিপ আবেদনের একটি অপরিহার্য অংশ। ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে পড়াশোনার জন্য সাধারণত IELTS বা TOEFL পরীক্ষার স্কোর চাওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইইএলটিএস-এ ৬.৫ থেকে ৭.০ স্কোরকে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। অন্যদিকে, যারা চীন, জাপান বা জার্মানির মতো দেশে স্থানীয় ভাষায় পড়তে চান, তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষার সনদ যেমন HSK, JLPT বা Goethe ইনস্টিটিউটের সার্টিফিকেট থাকা প্রয়োজন। ভালো ভাষা দক্ষতা শিক্ষার্থীর একাডেমিক সফলতা ও সামাজিক অভিযোজন—দুটিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. মানসম্মত এসওপি ও সিভি 

একটি শক্তিশালী Statement of Purpose (SOP) এবং সুসংগঠিত Academic CV স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। SOP হলো এমন একটি লিখিত বিবৃতি, যেখানে আবেদনকারীকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হয় কেন তিনি নির্দিষ্ট স্কলারশিপ ও প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সেই শিক্ষা সমাজে অবদান রাখতে সাহায্য করবে। এটি আবেদনকারীর চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে। অন্যদিকে, Academic CV-তে শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ অর্জনগুলো সংক্ষিপ্ত ও ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।

৪. সহ-শিক্ষা কার্যক্রম 

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল ভালো রেজাল্টধারী শিক্ষার্থী নয়, বরং সার্বিকভাবে সক্রিয় ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থী খোঁজে। তাই সহ-শিক্ষা কার্যক্রম স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভলান্টিয়ারিং কাজ যেমন রেড ক্রিসেন্ট, ব্লাড ডোনেশন গ্রুপ বা বিভিন্ন এনজিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতা সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে। একইভাবে স্কুল বা কলেজের কোনো ক্লাবের সভাপতি, সম্পাদক বা সক্রিয় সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আবেদনকারীর নেতৃত্বগুণ প্রমাণ করে। খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে অর্জন থাকলে তা আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

৫. গবেষণাপত্র ও প্রজেক্ট

মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ পেতে হলে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা প্রায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থাকলে আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যায়। এমনকি ব্যাচেলর পর্যায়ে করা কোনো মানসম্মত প্রজেক্ট বা থিসিসও গবেষণার সক্ষমতা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণার অভিজ্ঞতা দেখায় যে আবেদনকারী নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আগ্রহী এবং একাডেমিকভাবে গভীর চিন্তাশীল।

৬. সুপারিশপত্র (LOR)

স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে সুপারিশপত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাধারণত আবেদনকারীর ২ থেকে ৩ জন শিক্ষকের কাছ থেকে সুপারিশপত্র জমা দিতে হয়। এই চিঠিগুলোতে শিক্ষকরা আবেদনকারীর মেধা, আচরণ, পরিশ্রমী মনোভাব এবং একাডেমিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন প্রদান করেন। একটি ভালো সুপারিশপত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং তাকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রাখে।

শেষ কথা

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া ভাগ্যের চেয়েও বেশি আপনার পরিশ্রম এবং সঠিক কৌশলের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের বিশ্ববাজার আপনার জন্য উন্মুক্ত। এখন থেকেই নিয়মিত বিভিন্ন স্কলারশিপ পোর্টাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ফলো করুন। মনে রাখবেন, একটি রিজেকশন মানেই সব শেষ নয়, বরং সেটি পরবর্তী সফল আবেদনের একটি বড় শিক্ষা।

Follow Us

Newsletter

You have been successfully Subscribed! Ops! Something went wrong, please try again.

2025 E-Pass BD. All Rights Reserved.